হুমকিতে তালতলীর ‘শুভ সন্ধ্যা’ সৈকত ও বনাঞ্চল

20 Aug 2019 | খালেদ মোশাররফ সোহেল | Pnews24.com 
-------------------------------- 

Photo: PNEWS24.COM

বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে তীব্র ভূমি ক্ষয়ে হুমকির মুখে পড়েছে বরগুনার তালতলী উপজেলার সম্ভাবনাময় ‘শুভ সন্ধ্যা’ সমুদ্র সৈকত। হারিয়ে যাচ্ছে সৈকতের সৌন্দর্য্য বর্ধনকারী ঝাউবন। টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের তীব্র স্রোতে সৈকতের কোল ঘেঁষা ঝাউ গাছের নিচ থেকে বালু সরে যাওয়াতে ভেঙে গেছে দুই কিলোমিটার এলাকা। স্থানীয়রা সমুদ্র সৈকতটি রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। 

জানা গেছে, ২০১৭ সালে সাবেক ইউএনও বদরুদ্দোজা শুভর নাম অনুসারে সৈকতটির নামকরণ করা হয়। এই উপজেলার নলবুনিয়া একায় বিশাল বালুভূমিতে শুভ সন্ধ্যা পিকনিক স্পট নামকরণ করা হয়। এরপর বেশি সময় লাগেনি এটা পর্যটন কেন্দ্রে রূপ নিতে। এখানে প্রতিদিন দেশ বিদেশ থেকে হাজারও পর্যটক আসেন। ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে পর্যটন এলাকার রাস্তা নির্মাণের কাজ। ঝাউ বাগানের ভেতর দিয়ে কিছু দূর হেঁটে গেলেই দেখা যাবে বিশাল বালু ভূমি, যা খুবই দৃষ্টিনন্দন। 

রবিবার (১৮ আগস্ট) শুভ সন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত ঘুরে দেখা গেছে, সৈকতের প্রতিটি ঝাউ গাছের নিচ থেকে বালু সরে গেছে। সৈকত ঘেঁষা বনাঞ্চলের বিভিন্ন প্রজাতির শত শত গাছ উপড়ে পড়ে আছে। এভাবে ভূমিক্ষয় অব্যাহত থাকলে এ পর্যটন এলাকা দ্রুত বিলুপ্ত হবে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ ভারসাম্যহীন হয়ে পড়বে অপর দিকে পর্যটক শূন্য হয়ে যাবে সৈকতটি। 

তালতলী রেঞ্জের বন কর্মকর্তা নয়ন মিত্র পিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘প্রতি বছরই বর্ষা ও জোয়ারের স্রোতে ভাঙতে ঝাউ বাগান। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুত জিও ব্যাগ দিয়ে এলাকাটি বাঁধাই করা হবে।’ 

Bangladesh's Sirajganj power plant connects to grid

20 Mar 2019 | China Daily 
-----------------

The Sirajganj combined-cycle power plant (CCPP) project in Bangladesh was connected to the grid and began its commissioning on March 19, 2019. 

The grid connection marks another milestone for the project after the steam-line blowing, and lays a solid foundation for subsequent performance tests and the project handover. 

Constructed by SEPCO III, a subsidiary of POWERCHINA, the 414MW plant is part of the company’s efforts to implement the Belt and Road Initiative and also its first energy project in Bangladesh. It is a significant milestone in encouraging more Chinese electric power companies to tap into the overseas market, and has also boosted China-Bangladesh cooperation in the energy sector. 

During the construction, the project has offered more than 3,000 job opportunities to local residents to ease the employment pressure, and trained talent for industrial upgrading. 

Additionally, this project has had a significant development impact by alleviating Bangladesh’s electricity shortages, helping the country meet its growing demand for power, and providing clean and efficient energy to Bangladesh’s growing economy. 

TIB worried about setting up power plant without DoE clearance

08 May 2018 | MA Rahman | Risingbd.com 
------------------------

Transparency International Bangladesh (TIB) has expressed grave concern over the initiative of setting up a coal-fired power plant at Tengragiri reserve forest in Barguna and Power Development Board’s (PDB) signing a power purchase agreement (PPA) with the construction firm without any clearance from Department of Environment (DoE). 
 
At the same time, the organization has demanded immediate cancellation of the initiative risky for nature and lives. 
 
In a statement issued on Monday TIB Executive Director Dr Iftekharuzzaman referred to media reports that a local firm ISOTECH and two other foreign organizations are setting up a coal based 307 megawatt power plant within a kilometer of Tengragiri forest without DoE clearance. 
 
PDB has already signed a 25-year long PPA to buy power from this plant, he added. 
 
Mentioning that the coal plant move was taken violating the section 7 (4) of Environment Conservation Act, 1997, TIB executive director said, according to the environment law it is forbidden to set up any industrial unit within 10 kilometers of reserve forest. He said taking up of such an initiative with the participation of government organization is a matter of grave concern for the country. 
 
Claiming the initiative risky for nature and lives, Dr Iftekharuzzaman urged the government to cancel such destructive initiative as soon as possible and take necessary actions in this regard. 
 
Tengragiri, known as the second Sundarbans of the country, was declared as a sanctuary of wild animals by the Environment and Forest Ministry in October, 2010. The forest was once a part of the Sundarbans and was declared as a reserved forest area in 1960. The forest has around 40 animal species and different kinds of plants. 
 
If effective steps are not taken immediately to stop setting up the coal-fired power plant at Tengragiri reserve forest, the forest would be on the verge of extinction. 
 

৪ হাজার কোটি টাকায় বরগুনায় ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র

27 Sep 2018 | Jagonews24.com 
------------------ 
প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বরগুনা জেলায় ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে। ২০২২ সালের শুরু থেকেই উৎপাদনে যাবে কয়লাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি। 
৩০০ একর জমির ওপর নির্মিতব্য বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সরকারকে ২৫ বছর বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দর ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৭৭ টাকা (প্রতিটন কয়লার দর ১২০ ডলার হিসেবে)। তবে কয়লার দরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের সর্বনিম্ন দাম পড়বে ৪ টাকা। সাড়ে তিন হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এই প্রকল্পে। 
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ৪৬তম বৈঠকে এসব তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং বাস্তবায়নাধীন কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রসমূহের বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। 
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের অগ্রগতি সন্তোষজনক এবং এটি আগামী বছর থেকে উৎপাদনে যেতে পারবে বলে বৈঠকে জানানো হয়। 
বৈঠকে সূত্র জানায়, গত দুই বছরে বেসরকারি বেশ কয়েকটি কোম্পানি সরকারের সঙ্গে বিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মাণের চুক্তি করলেও অনেক কোম্পানির কাজের গতি সন্তোষজনক নয়। এজন্য এসব কোম্পানির কাজের গতি বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। 
তবে বরগুনার ওই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের গতি সন্তোষজনক। উৎপাদন শুরুর পর জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ন্যূনতম ৩০৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। 
বিদ্যুৎ বিভাগের বিকল্প কাউন্সিলর অফিসার স্বাক্ষরিত সংসদীয় কমিটিতে উত্থাপিত প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০১৭ সালে কয়লা আমদানি করে প্লান্ট চালানোর জন্য সরকারের সঙ্গে চুক্তি করেছিল মাতারবাড়ি ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এটির অগ্রগতি ১৮ শতাংশ। আর বরগুনা জেলায় কয়লাভিত্তিক ৩৫০ মেগাওয়াট ২২ শতাংশ। 
বরিশাল ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড নামের প্রকল্পটি চলতি বছরের ১২ এপ্রিলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় সংক্রান্ত (পার্চেস এগ্রিমেন্ট ও ইমপ্লিমেন্টেশন) চুক্তি করে। এটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে চীনের ‘পাওয়ার চায়না রিসোর্স লিমিটেড’ ও বাংলাদেশের আইসোটেক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘আইসোটেক ইলেট্রিফিকেশন কোম্পানি লিমিটেড’। 
জানা যায়, মোট প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা (৫৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)। মোট ৩০০ একর জমির ওপর নির্মিতব্য এই প্লান্ট থেকে চুক্তি অনুযায়ী সরকারকে ২৫ বছর বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দর ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৭৭ টাকা (প্রতিটন কয়লার দর ১২০ ডলার হিসেবে)। তবে কয়লার দরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের সর্বনিম্ন দাম পড়বে ৪টাকা। 
নির্মাণাধীন এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির দূরত্ব টেংরাগীরি সংরক্ষিত বনাঞ্চল (ফাতরার চর) থেকে ন্যূনতম ৬.৩৮ কিলোমিটার এবং সুন্দরবন থেকে ২১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ফলে সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে দুই কিলোমিটার এবং সুন্দরবন (ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ) থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় ইতোমধ্যে বন বিভাগের অনাপত্তিপত্র পেয়েছে আইসোটেক। 
এছাড়া নির্মাণাধীন প্রকল্প এলাকায় সরকারি কোনো খাস জমি নেই মর্মে ভূমি অফিস থেকে এবং প্রকল্প এলাকায় বন বিভাগেরও কোনো জমি নেই বলে বনবিভাগ ছাড়পত্র দিয়েছে। ইতোমধ্যে পরিবেশ অধিদফতরের অবস্থানগত সার্টিফিকেট পাওয়ায় জমি অধিগ্রহণ, জমি ক্রয়, বাঁধ নির্মাণ, মাটি ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। এসব কাজ শেষে দেয়া হবে স্থাপনা নির্মাণের ছাড়পত্র। 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইসোটেক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মঈনুল আলম বৃহস্পতিবার টেলিফোনে জাগো নিউজকে বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্র অর্জনের জন্য বিদ্যুৎ একটি প্রধান উপাদান। উন্নত দেশ হিসেবে বিশ্বের কাছে নিজেদের তুলে ধরার জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। 
এজন্য বিদ্যুৎ অপরিহার্য। তাই আমারও এ ধরনের প্রকল্প হাতে নিয়েছি। তবে পরিবেশের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সেটাকে আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি। আর সেখানকার এলাকাবাসীর জন্য পুনবার্সন চলছে। 
তিনি বলেন, প্রকল্পটি বৈদেশিক অর্থায়নে নির্মিত হওয়ায় সেহেতু নিয়ম-নীতির ব্যত্যয় ঘটানোর সুযোগ নেই। প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পের অংশ হিসেবে নির্মিত হচ্ছে। 
সংসদীয় কমিটিতে জানানো হয়, প্রকল্প এলাকায় বসবাসকারী অধিবাসীদের পুনবার্সন করার জন্য সাড়ে ৩ একর জমি কেনা হয়েছে। সেখানে পানি উন্নয়নের বোর্ডের জমিতে ১০৪টি পরিবার বসবাস করে। সেই ১০৪ জনের প্রত্যেককে ৫ শতক করে জমি রেজিস্ট্রি করে দেয়া হবে। 
প্রতিষ্ঠানটির পরিচয়ে বলা হয়- ‘পাওয়ার চায়না রিসোর্স লিমিটেড’ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান। তারা অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়াসহ বিশ্বের বেশ কিছু দেশে দক্ষতার সঙ্গে কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। এসব দেশে প্রায় ৩০ হাজার মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে প্রতিষ্ঠানটি। 
এ বিষয়ে আইসোটেক গ্রুপের মিডিয়া অ্যাডভাইজার ফিরোজ চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ওই এলাকায় শুধু বিদ্যুৎ প্লান্ট নয়, সেখানে কর্মরতদের ও স্থানীয়দের জন্য ৫০ শয্যার হাসপাতাল হবে। স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদরাসা, মন্দির করা হবে। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে সাড়ে ৩ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আর সুপেয় পানিরও ব্যবস্থা করা হবে। 
বৈঠক কমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলামে এমপির সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য ও সংসদের হুইপ মো. আতিউর রহমান আতিক এমপি এবং এম এ লতিফ এমপি বৈঠকে অংশ নেন। 

বরগুনায় হচ্ছে বিদ্যুৎকেন্দ্র : ব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা

28 Sep 2018 | Daily Alokito Bangladesh 
---------------------

প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বরগুনা জেলায় একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে প্রতিদিন ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। ২০২২ সালের শুরু থেকেই উৎপাদনে যাবে কয়লাভিত্তিক এ প্রতিষ্ঠানটি। ৩০০ একর জমির ওপর নির্মিতব্য বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সরকারকে ২৫ বছর বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৭৭ টাকা (প্রতি টন কয়লার দর ১২০ ডলার হিসেবে)। তবে কয়লার দরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের সর্বনিম্ন দাম পড়বে ৪ টাকা। সাড়ে তিন হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এ প্রকল্পে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ৪৬তম বৈঠকে এসব তথ্য জানানো হয়। বৈঠক কমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম এমপির সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য ও সংসদের হুইপ মো. আতিউর রহমান আতিক এমপি এবং এমএ লতিফ এমপি বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠকে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং বাস্তবায়নাধীন কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অগ্রগতি সন্তোষজনক এবং এটি আগামী বছর থেকে উৎপাদনে যেতে পারবে বলে বৈঠকে জানানো হয়। বৈঠকে সূত্র জানায়, দুই বছরে বেসরকারি বেশ কয়েকটি কোম্পানি সরকারের সঙ্গে বিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মাণের চুক্তি করলেও অনেক কোম্পানির কাজের গতি সন্তোষজনক নয়। এজন্য এসব কোম্পানির কাজের গতি বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। তবে বরগুনার ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের গতি সন্তোষজনক।

উৎপাদন শুরুর পর প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ন্যূনতম ৩০৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। বিদ্যুৎ বিভাগের বিকল্প কাউন্সিলর অফিসার স্বাক্ষরিত সংসদীয় কমিটিতে উত্থাপিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০১৭ সালে কয়লা আমদানি করে প্লান্ট চালানোর জন্য সরকারের সঙ্গে চুক্তি করেছিল মাতারবাড়ী ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এটির অগ্রগতি ১৮ শতাংশ। আর বরগুনা জেলায় কয়লাভিত্তিক ৩৫০ মেগাওয়াট ২২ শতাংশ।

বরিশাল ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড নামের প্রকল্পটি চলতি বছরের ১২ এপ্রিল বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় সংক্রান্ত (পার্চেস এগ্রিমেন্ট ও ইমপ্লিমেন্টেশন) চুক্তি করে। এটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে চীনের ‘পাওয়ার চায়না রিসোর্স লিমিটেড’ ও বাংলাদেশের আইসোটেক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘আইসোটেক ইলেট্রিফিকেশন কোম্পানি লিমিটেড’।

জানা যায়, মোট প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা (৫৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)। মোট ৩০০ একর জমির ওপর নির্মিতব্য এ প্লান্ট থেকে চুক্তি অনুযায়ী সরকারকে ২৫ বছর বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দর ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৭৭ টাকা (প্রতি টন কয়লার দর ১২০ ডলার হিসেবে)। তবে কয়লার দরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের সর্বনিম্ন দাম পড়বে ৪ টাকা।

সংসদীয় কমিটিতে জানানো হয়, প্রকল্প এলাকায় বসবাসকারী অধিবাসীদের পুনর্বাসন করার জন্য সাড়ে তিন একর জমি কেনা হয়েছে। সেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমিতে ১০৪টি পরিবার বসবাস করে। সেই ১০৪ জনের প্রত্যেককে ৫ শতক করে জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হবে।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচয়ে বলা হয়, ‘পাওয়ার চায়না রিসোর্স লিমিটেড’ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান। তারা অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়াসহ বিশ্বের বেশ কিছু দেশে দক্ষতার সঙ্গে কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। এসব দেশে প্রায় ৩০ হাজার মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে প্রতিষ্ঠানটি।

এছাড়া বৈঠকে জানানো হয় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে কয়লা উত্তোলন বর্তমানে অব্যাহত রয়েছে। বিদ্যমান চুক্তির আওতায় ২০২১ সাল পর্যন্ত এখান থেকে ৩.২০৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন কয়লা উত্তোলন সম্ভব হবে। এরপর বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উত্তর অংশে ১.৫ বর্গকিলোমিটার এবং দক্ষিণে ৩ বর্গকিলোমিটার মজুত এলাকা থেকে কয়লা উত্তোলনের মাধ্যমে চাহিদা পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বৈঠকে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবসহ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

বরগুনায় ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে আইসোটেক

14 Aug 2018 | The Probashi 
------------------
সরকারি-বেসরকারি প্রচেষ্টায় গত এক দশকে বাংলাদেশের বিদুৎ উৎপাদন নজিরবিহীন বেড়েছে। প্রতিটি গ্রামে বিদ্যুতায়নের লক্ষ্যে এখাতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করেছে সরকার। ফলে একের পর এক দেশি-বিদেশি কোম্পানি নির্বিঘ্নে বিনিয়োগ করছে এখাতে। এরই ধারাবাহিকতায় বরগুনায় ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে এগিয়ে এসেছে আইসোটেক গ্রুপ। 
এ গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আইসোটেক ইলেকট্রোফিকেশন কোম্পানি লিমিটেড বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার ছোট নিশানবাড়ীয়ায় নির্মাণ করতে যাচ্ছে এই বিদ্যুৎ প্রকল্প। আগামী ২০২২ সালের শুরু থেকেই উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে আইসোটেক। উৎপাদন শুরুর পর জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে নূন্যতম ৩০৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। 
চলতি বছরের ১২ এপ্রিল বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় সংক্রান্ত (পার্চেস এগ্রিমেন্ট ও ইমপ্লিমেন্টেশন) চুক্তি সম্পন্ন করেছে আইসোটেক। প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে চীনের ‘পাওয়ার চায়না রিসোর্স লিমিটেড’ ও বাংলাদেশের আইসোটেক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘আইসোটেক ইলেট্রিফিকেশন কোম্পানি লিমিটেড’। প্রকল্পটি ‘বরিশাল ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড’ নামে পরিচালিত হবে। মোট প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা (৫৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)। মোট ৩০০ একর জমির উপর নির্মিতব্য এই প্লান্ট থেকে চুক্তি অনুযায়ী সরকারকে ২৫ বছর বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। 
নির্মাণাধীন এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির দূরত্ব টেংরাগীরি সংরক্ষিত বনাঞ্চল (ফাতরার চর) থেকে ন্যূনতম ৬.৩৮ কিলোমিটার এবং সুন্দরবন থেকে ২১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ফলে সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে দুই কিলোমিটার এবং সুন্দরবন (ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ) থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় ইতোমধ্যে বন বিভাগের অনাপত্তিপত্র পেয়েছে আইসোটেক। এছাড়া নির্মানাধীন প্রকল্প এলাকায় সরকারি কোনো খাস জমি নেই মর্মে ভূমি অফিস থেকে এবং প্রকল্প এলাকায় বন বিভাগেরও কোনো জমি নেই বলে বনবিভাগ ছাড়পত্র দিয়েছে। 
ইতোমধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের অবস্থানগত সার্টিফিকেট পাওয়ায় জমি অধিগ্রহণ, জমি ক্রয়, বাঁধ নির্মাণ, মাটি ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। এসব কাজ শেষে দেওয়া হবে স্থাপনা নির্মাণের ছাড়পত্র। 
আইসোটেক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. মঈনুল আলম বলেন, সরকারের সকল নিয়ম-নীতি অনুসরণ করে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। কারণ, সরকারের সাথে চুক্তি অনুযায়ী পাওয়ার প্লান্টটির নির্মাণ কাজ ৪৫ মাসের মধ্যে শেষ করতে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, বিআইডাব্লিউটিএ ও স্থানীয় প্রশাসন প্রত্যক্ষভাবে সহোযেগিতা করে যাচ্ছে। এজন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। 
তিনি আরো বলেন, প্রকল্পটি সফলভাবে সমাপ্ত করতে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের জনগণও সাহায্য করছে। সবার সাহায্য সহযোগিতা না পেলে এত বড় কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করা সম্ভব নয়। আমরা আশা করছি, সবার সহযোগিতা নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের ন্যাশনাল গ্রিডে ৩০৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবো। 
দেশে বিদ্যুতের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে মঈনুল আলম বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। এই অর্জন ধরে রেখে উন্নত দেশের কাতারে যেতে আমাদের অনেক বেশি উন্নয়নমুখী হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগ ‘ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ স্লোগানকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিনশত সাত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। 
পাওয়ার প্লান্টটি নির্মাণ হলে এলাকায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে বলে জানান আইসোটেক গ্রুপের মিডিয়া এডভাইজার সিনিয়র ফটো সাংবাদিক ফিরোজ চৌধুরী। তিনি বলেন, এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে সাড়ে তিন হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া এ অঞ্চলের জনগণের কথা চিন্তা করে প্রকল্প এলাকায় স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল ও বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। যেহেতু এলাকার পানি লবনাক্ত সেহেতু গভীর নলকূপ স্থাপনের মাধ্যমে স্থানীয়দের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হবে। ইতোমধ্যেই প্রকল্প এলাকায় নানামুখী সমাজ কল্যাণমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে আইসোটেক গ্রুপ। 
মো. মঈনুল আলম বলেন, যেহেতু প্রকল্পটি বৈদেশিক অর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে সেহেতু নিয়ম নীতির ব্যত্যয় ঘটানোর সুযোগ নেই। প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পের অংশ হিসেবে নির্মিত হচ্ছে। 
উল্লেখ্য, বর্তমান সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৮১৯ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৮৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২১ হাজার ৬৫৯ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১১৪টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের চুক্তি হয়েছে। বর্তমানে মোট ১৩ হাজার ৭৭১ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৪৭টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণাধীন। আর এ কেন্দ্রগুলো ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালু হবে। এছাড়া ৫ হাজার ৯২ মেগাওয়াটের ৩০টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন। যেগুলো ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালু হবে। 

গরিবের ভিটায় বিদ্যুৎকেন্দ্র

04 Sep 2018 | আরিফুজ্জামান তুহিন | দৈনিক প্রথম আলো
-------------------------
সাংবাদিক এসেছে শুনে বহু দূরের পথ একপ্রকার দৌড়ে এসেছেন বৃদ্ধা। কাছে এসে আর কথা বলতে পারলেন না, পড়ে গেলেন মাটিতে। কোনোমতে বললেন, ‘আমি কোথায় থাকব? কীভাবে বাঁচব?’ এই আর্তি বরগুনার তালতলীর ছোট নিশানবাড়িয়ার অংকুজান গ্রামের ভূমিহীন খবিরুন্নেসার। 
এই বৃদ্ধার মতো অংকুজান গ্রামের ৪৫০ পরিবারের কয়েক হাজার মানুষ ঘরবাড়ি হারানোর শঙ্কায় দিন পার করছেন। ওই গ্রামের ভূমিহীনদের ৩১০ একর জমির ওপর আইসোটেক ইলেকট্রিফিকেশন কোম্পানি’র ৩০৭ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। 
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, পায়রা নদীর মোহনায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সাইনবোর্ড। খোট্টার চর হিসেবে পরিচিত এ এলাকায় বসবাসরত সবাই সাগর ও নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। বিদ্যুৎকেন্দ্রের সীমানা লাগোয়া বন বিভাগের সৃজিত বনভূমি রয়েছে। 
এ প্রকল্প থেকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্বাসমূলীয় সংরক্ষিত বন টেংরাগিরির দূরত্ব চার কিলোমিটারের কম। আর নদীর ওপারে বরগুনার পাথরঘাটার সংরক্ষিত লালদিয়া বনের দূরত্ব এক কিলোমিটারের কম। 
জানা গেছে, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণের জন্য এখনো পরিবেশ অধিদপ্তরের চূড়ান্ত অনুমতি বা পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (ইআইএ) নেয়নি আইসোটেক। পরিবেশের জন্য লাল ক্যাটাগরির অতিবিপজ্জনক তালিকায় থাকা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ শুরু করতে হলে ইআইএর অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। আইসোটেক এসব আইন অমান্য করে সেখানে মাটি ভরাটের কাজ শুরু করেছে। 
এলাকাবাসী জানায়, নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে পায়রা নদী থেকে খোট্টারচর জেগে ওঠার পর সেখানে স্থানীয় ভূমিহীন দরিদ্র মানুষ বাস শুরু করে। এরপর বরগুনার জেলা প্রশাসক ২০০২ সালে ৯৯ বছরের জন্য পরিবারপ্রতি এক একর জমি ইজারা দিয়েছেন। আইন অনুযায়ী এ জমি কেউ বিক্রি করতে পারবে না। 
জানতে চাইলে বরগুনার জেলা প্রশাসক মো. মোখলেছুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এটি পায়রা নদীর তীরে জেগে ওঠা নদীর জমি। নদীর জায়গা মূলত সরকারের। সরকারি জমি বিভিন্ন সময় অধিগ্রহণ করে বিভিন্ন প্রকল্পে দেওয়া হয়। তবে সে ক্ষেত্রে আইন মেনে আবেদন করতে হয়। বিদ্যুৎকেন্দ্র কোম্পানির কাছ থেকে এ ধরনের কোনো আবেদন পাওয়া যায়নি। 
এ ছাড়া গত ২৯ মে হাইকোর্ট অংকুজান গ্রামে সরকারি খাসজমিতে ৩০৭ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণের স্থগিতাদেশ দেন। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ১৪টি মাটি কাটার যন্ত্র দিয়ে প্রস্তাবিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের জায়গা ভরাট করা হচ্ছে। 
নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তাঁদের বলেছিলাম আদালতের নিষেধাজ্ঞা আছে, মাটি কাটা বন্ধ রাখুন। তাঁরা সেটি না শুনেই মাটি ফেলার কাজ করছে। এ জায়গাটি বহুদিন ধরে ভূমিহীনরা সরকারের কাছ থেকে ইজারা নিয়ে ভোগদখল করছে, সেটি বেসরকারি কোম্পানি কী করে দখল করে নিয়ে যায়?’ 
এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে আইসোটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে জমি কিনেছি। সেখানে সরকারি জমি আগে ছিল। তবে সম্প্রতি আদালত থেকে রায় পেয়েছে কিছু ব্যক্তি। আমি তাদের কাছ থেকে জমি কিনেছি। যদি জমি নিয়ে কারও কোনো আপত্তি থাকে, তাহলে সেটি আমরা নিষ্পত্তি করব। প্রকল্প এলাকায় যাদের বাড়িঘর আছে, প্রত্যেককে আমরা নতুন পাকা বাড়িঘর বানিয়ে দেব।’ তবে তিনি আদালতের কোনো রায় দেখাতে পারেননি। 
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ আমি হাতে পাইনি। এটা খতিয়ে দেখব।’ 
প্রতিবাদ করায় চাঁদাবাজির মামলা 
সরেজমিনে দেখা গেছে, পায়রা নদীর মোহনায় বাস করা অধিকাংশ লোকই হতদরিদ্র। সরকারের কাছ থেকে নেওয়া খাসজমিই তাঁদের একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই। বিদ্যুৎ কোম্পানি এই জমি কেড়ে নেওয়ায় তাঁরা প্রতিবাদ করেন। আর এ জন্য কোম্পানির পক্ষ থেকে গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে প্রকল্পের প্রকৌশলী মো. মুরাদ বাদী হয়ে গত ১৮ জুলাই ছয়জনকে আসামি করে ৩০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির মামলা করেন। 
গ্রামবাসী অভিযোগ করেছেন, মিথ্যা মামলা হওয়ার পর এখন প্রায় প্রতিদিনই আসামি ধরার জন্য পুলিশ গ্রামে হানা দেয়। 
এ প্রকল্পের ক্ষতিগ্রস্ত ফাতেমা বেগম বলেন, ‘তারা প্রথমে আমাদের চলে যেতে বলেছে, আমরা রাজি হইনি। আমরা এসপি সাহেবের কাছে গিছিলাম। তারপরে আরও খ্যাপে এখন চাঁদাবাজির মামলা দিছে। আমরা জমি ছাড়ব না।’ 
এ বিষয়ে আরেক ভূমিহীন নারী আকলিমা বেগম বলেন, ‘সাত-আট মাস আগে কোম্পানিওয়ালারা বলেছে তুমি এখানে থাকতি পারবা না। তারা আমার বাড়ির ওঠোনে বালি ফেলেছে। যত গাছগাছালি ছিল সব বালিতে আটকা পড়ে গেছে। বাড়ি থেকে বেরানো যায় না।’